History

পটভূমি

সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত মানবগোষ্ঠী হচ্ছে পিতৃমাতৃহীন অনাথ শিশু। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এরা সহায় স¤¦লহীন, নিরাশ্রয় হয়ে থাকে। লেখাপড়া বা কর্মসং¯হানের জন্য নিজেকে উপযোগী করে গড়ে তোলা দূরে থাকুক বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এদের পক্ষে দুমুঠো অন্নের সং¯হান করাই অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সহায় স¤পদ থাকা সত্ত্বেও স¦ার্থানে¦ষী আত্মীয় স¦জনরাই এদেরকে নিরাশ্রয় করে দেয়। অথচ বলা হয়ে থাকে আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। একটি দেশ, একটি জাতির সু¯হ বিকাশ ও উন্নয়নের স¦ার্থে শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। আদর যত্ম করে লালন পালন, উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করে কর্ম সং¯হানের ব্যব¯হা করা প্রতিটি শিশুর জন্য সমাজের প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। যে সমস্ত শিশুর পিতামাতা আছে বা হৃদয়বান আত্মীয় স¦জন আছে তাদের জন্য এ চেষ্টার কমতি থাকে না। অনাথ এতিম আশ্রয়হীন শিশুদের জন্যও এ সুযোগের ব্যব¯হা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআন শরীফে একাধিকবার এতিমদের ব্যাপারে যত্মবান হওয়ার জন্য, তাদের প্রতি হৃদয়বান হওয়ার জন্য এবং তাদের প্রতি নিজ সন্তানের মতো স্নেহ প্রদর্শনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মানুষের জন্য মানুষ, একের বিপদে অন্য সবাই এগিয়ে আসবে এটাই সামাজিক রীতি। এজন্যই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব-আশরাফুল মাখলুকাত। আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে তাই আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সহায়হীন শিশুদের পাশে দাড়ানো।


মহান আল্লাহপাক সকল মানুষের সামর্থ্য সমান করে প্রদান করেননি। তাই যার যে সামর্থ্য আছে বা থাকে তার উচিত সেই সামর্থ্য নিয়ে সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো। এতেই সমাজের সামগ্রিক কল্যান নিহিত আছে।

মেঘনা উপজেলার কৃতি ও খ্যাতিমান সন্তান জনাব গাজী মোঃ সফর আলী ও তাঁর সহধর্মীনি মিসেস সালেহা বেগম আল্লাহ পাকের অসীম কৃপায় ও অত্র এলাকার জনসাধারনের আর্শীবাদে তাদের পাঁচ পুত্র ও তিন কন্যাকে উপযুক্তভাবে মানুষ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সন্তানেরা প্রতেকেই স¦ীর স¦ীয় কর্মক্ষেত্রে খ্যাতিমান, কীর্তিমান, সফল এবং উচ্চপদে আসীন। আল্লাহ তাঁদের প্রতি অশেষ মেহেরবান, তাই তাঁদের পিতামাতার ন্যায় তাঁদেরকেও মানুষের প্রতি হৃদয়বান, যত্মবান ও দয়ালু হওয়ার শিক্ষা তাদের হৃদয়ে জাগরুক রেখেছেন। জনাব সফর আলী তাঁর জীবনের সমগ্র সময় অত্র এলাকার জনসাধারনের সেবায় ব্যয় করেছেন। জনগনের সকল সুখ দুঃখের সাথী হিসেবে ছিলেন। শিক্ষার আলোক প্রদীপ জ্বেলে এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটানো থেকে শুরু করে মহান স¦াধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিঃস¦ার্থ ভূমিকার কথা সর্বজনবিদিত। তাঁর সন্তানেরাও তাঁরই আদর্শকে অন্তরে লালন করে, ধারন করে এবং উপযুক্তভাবে প্রকাশ করে। এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ও কল্যান সাধন, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে অসহায়ের পাশে সহায় হিসেবে দাঁড়ানোকে তাঁরাও পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এবং লালন করে। ইতোমধ্যে এলাকার প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ হিসেবে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের দ্বারা হরিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নতুনভাবে বৃহদাকারে পূনঃ নির্মাণ করা হয়েছে, হরিপুর দক্ষিণ পাড়ায় বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ¯হাপন করা হয়েছে। যেখানে বর্তমানে দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে।

মেঘনা উপজেলা রাজধানী ঢাকার অতি নিকটে হলেও দেশের অন্যান্য অংশের ন্যায় এখানে কাংখিত উন্নয়ন হয়নি। যোগাযোগ, স¦া¯হ্য, চিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ অপ্রতুল। কর্মসং¯হানের সুযোগ নেই বললেই চলে। সঙ্গত কারইেন এখানে সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়গুলো এখনো মানুষের নিকট অবহেলিত। এলাকার সহায় স¤¦লহীন বঞ্চিত শিশুদের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অনেকের মনেই নানাভাবে উকি দিলেও তা বিভিন্ন কারণে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ন ও পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধের চেতনা থেকেই জনাব সফর আলী তার সন্তানদেরকে উপদেশ দেন- অনাথ এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। মূলত তাঁর উৎসাহ ও আগ্রহে তাঁর সন্তানদের সমি¥লিত উদ্যোগে সালেহা সফর শিশু আনন্দ নিকেতন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

জনাব সফর আলীর সুযোগ্য সন্তানদের নিজস¦ আয়ের অংশ ও ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তাদের কর্তৃক প্রদেয় জাকাতের অর্থ হতে এ প্রতিষ্ঠানের সমস্ত ব্যয় নির্বাহ করা হবে। তবে উৎসাহী ও আগ্রহী যে কোন ব্যক্তি এতিমদের সাহায্য করতে আগ্রহী হলে তা সাদরে গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ২০জন শিশু নিয়ে এটি যাত্র শুরু করবে। আগামী পাঁচ বৎসরের মধ্যে এতে ১০০ জন শিশুর আবাসন ও শিক্ষার ব্যব¯হা করা হবে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিশু যেন সঠিক শিক্ষা লাভের মাধ্যমে উপযুক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এটিই আমাদের সকলের লক্ষ্য।